এল নিনোর আশঙ্কায় চিনি রফতানি বন্ধ করতে পারে ভারত

বিশ্ববাজারে চিনি রফতানি বন্ধ করতে পারে ভারত। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি এল নিনো এবং জৈব জ্বালানি বা ইথানল উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি।

এ সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক মিলিয়ন টন চিনির সরবরাহ কমে যাবে বলে ধারাণা করা হচ্ছে। এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চিনি সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম চড়া থাকবে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ব্যবসায়ী, সরকারি সূত্র ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতে আখের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চিনি থেকে ইথানল তৈরির প্রবণতা বাড়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ওপর জলবায়ু প্যাটার্ন এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আবাদ মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভারতে চিনি খুবই সংবেদনশীল একটি পণ্য। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্যালরির একটি সস্তা ও বড় উৎস এটি। তাই দেশটির বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই সরকার রফতানির চেয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত কম হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রফতানিকারক দেশ ভারতের পক্ষে আগামী তিন বছর রফতানি বাজারে ফেরা সম্ভব হবে না।

বিশ্বের অন্য বড় চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোও একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। শীর্ষ রফতানিকারক ব্রাজিল এখন চিনি উৎপাদনের চেয়ে ইথানল তৈরিতে আখের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে খরা পরিস্থিতির কারণে আরেক শীর্ষ দেশ থাইল্যান্ডেও চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অতীতে বৈশ্বিক চিনি সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ আসত ভারত থেকে। দেশটি বছরে গড়ে ৬৮ লাখ টন চিনি রফতানি করত। তবে চলতি মৌসুমে মাত্র আট লাখ টন চিনি রফতানির পর ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বর্তমানে ভারতের চিনি কলগুলোর জন্য সরকারি অনুমতি ছাড়া চিনি রফতানি করা অসম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি কোনো নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে প্রতি মৌসুমের পরিস্থিতি বিবেচনা করে রফতানির অনুমতি স্থগিত রেখেছে নয়া দিল্লি। এরই মধ্যে স্থানীয় মিলগুলোকে দেশের বাজারকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও